‘মা, তোমার শরীর দেখতে বিশ্রী!’: সন্তানের এক কথায় ভেঙে গেল মায়ের বছরের পর বছর গড়ে তোলা আত্মবিশ্বাস

‘মা, তোমার শরীর দেখতে বিশ্রী!’: সন্তানের এক কথায় ভেঙে গেল মায়ের বছরের পর বছর গড়ে তোলা আত্মবিশ্বাস · Avonetics
বাচ্চাদের স্কুলের পোশাক কিনতে গিয়ে নিজের জন্য কয়েকটি নতুন পোশাক পছন্দ করেছিলেন এক নারী। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত জিমে গিয়ে, ক্রসফিট করে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস মেনে চলেও নিজের মাতৃত্বকালীন শরীরের পরিবর্তন নিয়ে তিনি সবসময় এক ধরনের হীনমন্যতায় ভুগতেন। কেনাকাটার সময় একটি আধুনিক লেগিংস পরার পর তার স্বামী বেশ উৎসাহ নিয়ে প্রশংসা করলেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের সাত বছরের ছোট সন্তান বলে উঠল, 'মা, তুমি এমন পোশাক কেন পরছ যা তোমার শরীরকে বিশ্রী আর ঢিবি দেখাচ্ছে?'
সন্তানের এই একটিমাত্র মন্তব্য যেন সেই মায়ের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা আত্মবিশ্বাসের দেওয়ালে চরম আঘাত হানল। মুহূর্তে নিজের সাধারণ ঢিলেঢালা পোশাকে ফিরে গিয়ে কেনাকাটা বাদ দিলেন তিনি। পরবর্তীতে স্বামী তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে বলেন, 'আমি তো তোমাকে দেখতে সুন্দর বলছি, সেটাই কি সব নয়?' কিন্তু একজন নারীর জন্য নিজের চোখে নিজেকে সুন্দর দেখতে পাওয়া এবং আত্মতুষ্টি লাভ করা কতটা জরুরি, তা যেন স্বামীর কাছে অধরাই থেকে গেল।
Read nextআমার বাচ্চার যত্ন নাও, কিন্তু নিজের বাচ্চা পাবে না! সঙ্গীর চরম স্বার্থপরতায় দিশেহারা ২৯ বছরের তরুণী
এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষ দুটি সুস্পষ্ট মতামত প্রকাশ করেছেন।
একদল মন্তব্যকারী বলেছেন যে, শিশুদের মন্তব্যের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ভিত্তি থাকে না। তাদের মতে, সাত বছরের একটি শিশু পূর্ণবয়স্ক মানুষের শরীরের গঠন সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা রাখে না। তাই শিশুর অবুঝ মন্তব্যকে মাথায় নিয়ে নিজের মানসিক শান্তি নষ্ট করা অনুচিত। তারা মনে করেন, যেখানে স্বামী ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখাচ্ছেন, সেখানে স্বামীর প্রশংসাকেই গ্রহণ করা উচিত ছিল।
অন্য একটি দল সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, মাতৃত্বের পর নারীদের শরীরের যে পরিবর্তন আসে, তা মানসিকভাবে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। একজন নারী যখন নিজের শরীরের ওপর আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন, তখন পরিবার বা সন্তানের যেকোনো কটু মন্তব্য গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। 'স্বামী পছন্দ করলেই সব ঠিক'—এই মানসিকতা নারীর নিজস্ব সত্ত্বা ও আত্মপ্রেমকে উপেক্ষা করে। সন্তানদেরও ছোটবেলা থেকে অন্যের শরীর নিয়ে কথা না বলার শিষ্টাচার শেখানো উচিত বলে অনেকে অভিমত প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে সেই নারী নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং দোকানে গিয়ে নিজের পছন্দের পোশাকগুলো কিনে আনেন। একই সাথে নিজের ভেতরের দুর্বলতাকে কাটিয়ে ওঠার যাত্রা শুরু করেন।
এই গল্পের পাশাপাশি পডকাস্টে আরও একটি ঘটনা উঠে এসেছে, যেখানে এক তরুণী পরিবারের তীব্র মানসিক নিয়ন্ত্রণ ও বিষাক্ত পরিবেশ থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিজের স্বাধীন জীবন বেছে নিয়েছেন।
কীভাবে সন্তান ও পরিবারের মন্তব্য আমাদের আত্মবিশ্বাসকে প্রভাবিত করে এবং কীভাবে আমরা নিজেদের আত্মপ্রেম পুনরুদ্ধার করতে পারি, তা নিয়ে পডকাস্টের সঞ্চালকরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন 'অভিভাবকনামা'র নতুন পর্বে।