রাত ২টোয় বসের মেসেজ আর ১০ মিনিটের বাথরুম ব্রেক: কর্পোরেট অফিসের এই গল্প কি আপনারও?

রাত ২টোয় বসের মেসেজ আর ১০ মিনিটের বাথরুম ব্রেক: কর্পোরেট অফিসের এই গল্প কি আপনারও? · Avonetics
সকালের কফিটা মুখে তোলার আগেই স্লাক বা হোয়াটসঅ্যাপে নোটিফিকেশন—'টু-ডিজিটের প্রজেক্ট রিপোর্টটা ফাইল হয়নি কেন?' ঘড়িতে তখন সকাল আটটাও বাজেনি। এটি কোনো ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং আজকের কর্পোরেট দুনিয়ায় হাজারও চাকুরিজীবীর প্রতিদিনের বাস্তব দৃশ্য। কাজের জায়গায় উৎপাদনশীলতার দোহাই দিয়ে এমন সব উদ্ভট নিয়ম চালু করা হচ্ছে, যা শুনে হাসিও পায় আবার রাগও হয়।
সম্প্রতি এক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সেখানে কর্মচারীদের বাথরুমে যাওয়ার জন্য বিশেষ পাঞ্চ-কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়। দিনে ১০ মিনিটের বেশি বাথরুমে কাটালে সরাসরি বেতন থেকে অর্থ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়। এক ভুক্তভোগী কর্মী বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে একদিন তার অতিরিক্ত ৫ মিনিট লেগেছিল, যার ফলে মাস শেষে বেতন থেকে বাদ গেছে পুরো আধাদিনের টাকা।
Read nextকাস্টমারের সঙ্গে সামান্য তর্কে চাকরি খোয়ানোর ঝুঁকি! কর্পোরেট দ্বিমুখী নীতি ও এক কর্মীর আইনি জয়ের অবিশ্বাস্য ঘটনা
আরেকটি জনপ্রিয় ট্রেডিং কোম্পানির গল্প আরও চমকপ্রদ। সেখানে মনিটরের সাথে আই-ট্র্যাকিং সফটওয়্যার যুক্ত করা হয়েছে। কর্মীর চোখ যদি দুই মিনিটের জন্য মনিটর থেকে দূরে যায়, অমনি সিস্টেমে 'বিশ্রামরত' হিসেব গণ্য হয়। অন্য এক ভুক্তভোগী দাবি করেন, ঘরের পোষা বিড়ালটি টেবিলে উঠে আসায় তিনি ৫ সেকেন্ড অন্য দিকে তাকিয়েছিলেন, তাতেই লাল চিহ্নিত সতর্কবার্তা পাঠানো হয় তার বসের কাছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ধরণের মাইক্রোম্যানেজমেন্ট বা অতি-নজরদারি মূলত বসের ভেতরের মানসিক নিরাপত্তাহীনতা থেকেই জন্ম নেয়। যে ম্যানেজার নিজের ক্ষমতার ওপর পুরোপুরি আশ্বস্ত নন, তিনিই সহকর্মীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য এমন বিচিত্র নিয়ম তৈরি করেন। কাজের ফলের চেয়েও তিনি বেশি নজর দেন কর্মী কতক্ষণ চেয়ারে স্থির বসে আছেন।
অনেক চাকরিজীবী এখন এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অভিনব উপায়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কেউ কি-বোর্ডে অটোমেটিক স্পেসবার প্রেস করার ডিভাইস বসাচ্ছেন, কেউ বা মাউস মুভার ব্যবহার করছেন যাতে ট্র্যাকিং সফটওয়্যার মনে করে তারা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। এক আইটি কর্মী মজা করে মন্তব্য করেন, আসল কাজ করার চেয়ে কাজ করার ভান করতে এখন দ্বিগুণ শ্রম দিতে হয়।
এই কর্পোরেট সার্কাস কি কোনো দিন থামবে, নাকি আধুনিক কর্মক্ষেত্র রূপ নেবে এক ডিজিটাল নজরদারির কারাগারে? এই বিষয়ে বিশদ বিশ্লেষণ এবং বসকে কাবু করার দুর্দান্ত সব কৌশল নিয়ে পডকাস্টের এই বিশেষ পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন আমাদের সঞ্চালকরা।