ডিলারের চড়া বিল নাকি আফটারমার্কেট অ্যান্ড্রয়েড? লেক্সাস GX460-এর ইনফোটেইনমেন্ট জ্যামে বিপাকে মালিক!

ড্যাশবোর্ডের স্ক্রিন লক হয়ে এসি ফুল ব্লাস্টে চলায় চরম উদ্বেগে গাড়ির মালিক; মেকানিক বনাম আফটারমার্কেট সিস্টেমের যুদ্ধ!
Bengali

ডিলারের চড়া বিল নাকি আফটারমার্কেট অ্যান্ড্রয়েড? লেক্সাস GX460-এর ইনফোটেইনমেন্ট জ্যামে বিপাকে মালিক! · Avonetics

🎧 Listen to this episode
Closes with the original song “মিথ্যে বাহানা”. · Plays on Spotify · Open on Spotify ↗
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

২০১৪ সালের একটি লেক্সাস GX460 বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ি। চালকের আসনে বসে স্টার্ট দিতেই হঠাৎ চমক—ড্যাশবোর্ডের মূল ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিনটি একেবারে থমকে গেছে। বারবার গাড়ি চালিয়েও স্ক্রিনের কোনো পরিবর্তন নেই। শেষমেশ সমাধান পাওয়ার আশায় গাড়ির মালিক ব্যাটারির নেগেটিভ টার্মিনাল খুলে ১৫ মিনিটের একটি হার্ড রিসেট দেন। কিন্তু বিপদ কমেনি, বরং আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

ব্যাটারি আবার যুক্ত করার পর স্ক্রিনে ভেসে ওঠে এক হতাশাজনক সতর্কবার্তা—"A program cannot be read please consult dealer"। শুধু তাই নয়, গাড়িটি স্টার্ট দেওয়ার সময় অন্তত আটবার রিবুট হয় এবং প্রতিবারই স্ক্রিনে দেখায় "Checking for Map Data please wait"।

Read nextমেকানিকের পাঁচ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেওয়ার পর ড্যাশবোর্ডের বোতাম টিপতেই ফাঁস গোপন সত্য!

গাড়ির মালিক সোজা চলে যান স্থানীয় অনুমোদিত ডিলারশিপে। ডিলারের টেকনিশিয়ানরা পুরো পরিস্থিতি দেখে অবিলম্বে পুরো রেডিও এবং ইনফোটেইনমেন্ট ইউনিটটি সম্পূর্ণ বদলে ফেলার পরামর্শ দেন। আর এর জন্য তাঁরা যে বিল নির্ধারণ করেন, তা শুনে যে কারও আঁতকে ওঠার কথা। ডিলারের এই বিশাল অঙ্কের মূল্যের দাবিতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন গাড়ির মালিক।

তবে আসল দুশ্চিন্তা কেবল স্ক্রিন কিংবা ডিলারের অতিরিক্ত বিল নিয়ে নয়। ২০১৪ সালের লেক্সাস GX460 মডেলে গাড়ির ক্লাইমেট কন্ট্রোল বা এসি সিস্টেমটি সম্পূর্ণভাবে এই ডিজিটাল ডিসপ্লের সাথে সংযুক্ত। স্ক্রিন বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে বর্তমানে গাড়ির এসি অটোমেটিক মোডে ফুল ব্লাস্টে চলতে শুরু করেছে।

অবিরামভাবে পূর্ণ শক্তিতে এসি চলায় ব্লয়ার মোটর এবং এসি কম্প্রেসর নষ্ট হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন গাড়িতে বসে থাকা অসম্ভব হয়ে উঠছে, অন্যদিকে যেকোনো মুহূর্তে গাড়ির এসির মূল যন্ত্রাংশ পুড়ে গিয়ে আরও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

এই কঠিন পরিস্থিতিতে গাড়ি প্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। একদল অভিজ্ঞ গাড়িপ্রেমী দাবি করছেন, ডিলারশিপের এই চড়া মূল্যের পরামর্শ শুধুই পকেট কাটার কৌশল। তাঁদের মতে, মাত্র কয়েক ডলারের কোনো লজিক বোর্ড সমস্যা বা সিঙ্ক রিসেটের মাধ্যমেই এটি সমাধান করা সম্ভব।

একজন অটো-উৎসাহী মন্তব্য করেছেন, অ্যামাজন বা স্থানীয় বাজার থেকে সঠিক এডাপ্টার ফ্রেমসহ একটি অ্যান্ড্রয়েড কার স্টেরিও কিনে লাগিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে লাভজনক সিদ্ধান্ত। এতে করে একদিকে যেমন ডিলারের হাত থেকে বেঁচে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো-র মতো আধুনিক প্রযুক্তি গাড়িতে যুক্ত হবে।

Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avonetics

অন্য একজন কার-মেকানিক অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন, সামান্য কানেক্টর পরীক্ষা করা বা কেবল কানেকশন পরিষ্কার করলেও অনেক সময় ম্যাপ ডেটা পড়ার সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। তাই শুরুতেই পুরো ইউনিট বদলানো বা আফটারমার্কেট প্লেয়ার বসানো বোকামি।

অন্যদিকে, সতর্কতাবাদী মেকানিকদের মতে, লেক্সাসের মতো বিলাসবহুল গাড়িতে সস্তা আফটারমার্কেট অ্যান্ড্রয়েড ইউনিট বসালে এসি কন্ট্রোলিং ব্যবস্থা পুরোপুরি অকেজো হয়ে যেতে পারে। সস্তা চায়নিজ বোর্ডগুলো গ্রীষ্মের অতিরিক্ত তাপে হ্যাং করে এবং গাড়ির মূল ওয়ারিংয়ের ক্ষতি করতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো, লেক্সাসের এই ব্ল্যাকআউট স্ক্রিন বাঁচাতে এবং এসি মোটর রক্ষা করতে কোনটি সেরা পথ—ডিলারের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আফটারমার্কেট অ্যান্ড্রয়েড প্লেয়ার বসানো, নাকি অরিজিনাল লজিক বোর্ড মেরামত করা?

এই রোমাঞ্চকর টেক-ড্রামা এবং কার-মেকানিকদের আসল রহস্য নিয়ে আরও গভীরভাবে খোলামেলা বিতর্ক জমে উঠেছে ‘গতিপথ’ পডকাস্টের সাম্প্রতিক পর্বে!

0:00
0:00
Link copied ✓