"আগস্টের রোদেও বরফের ভয়": ঋতু পরিবর্তনের আতঙ্ক আর আধুনিক জীবনের গভীর শূন্যতা

জীবন সাজিয়েও কেন সুখী হতে পারছেন না অনেকে? ঋতুভিত্তিক অবসাদ ও জীবনের অস্তিত্ব সংকটের সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
Bengali

"আগস্টের রোদেও বরফের ভয়": ঋতু পরিবর্তনের আতঙ্ক আর আধুনিক জীবনের গভীর শূন্যতা · Avonetics

🎧 Listen to this episode
Closes with the original song “তোমার মিথ্যে গ্রীষ্ম”. · Plays on Spotify · Open on Spotify ↗
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

আগস্ট মাসের তপ্ত রোদ যখন চারপাশে, ঠিক তখনই এক অদ্ভুত আতঙ্ক গ্রাস করছে অনেককে। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে সেপ্টেম্বর আসার আগেই মনে জমে উঠছে এক হিমশীতল ভয়। বাইরে যখন রঙিন গ্রীষ্মের শেষ আমেজ, ঠিক তখনই দোকানগুলোতে শরৎ আর শীতের সাজসজ্জা দেখে বুকের ভিতর কান্নার দোলা দিচ্ছে। ৩৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিজের মনের অতল আতঙ্ক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, বয়স যত বাড়ছে, শীতের দীর্ঘ সাত মাসের হিমেল অন্ধকার সহ্য করা তত কঠিন হয়ে উঠছে।

গ্রীষ্মের মাত্র দুই বা তিন মাস একটু মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়া, বন্ধুদের সাথে বাইরে বসা বা সমুদ্র সৈকতে যাওয়ার সুযোগ মেলে। কিন্তু এরপরেই শুরু হয় দীর্ঘ বন্দিদশা। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে এটি কেবল ঋতু পরিবর্তন মনে হলেও, মনস্তত্ত্ববিদদের মতে এটি 'সিজনাল অ্যাফেক্টিভ ডিসঅর্ডার' বা ঋতুভিত্তিক মানসিক অবসাদের এক চরম প্রকাশ। অনেকে মনে করেন, গ্রীষ্মের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ বা ডেডলাইন থাকে বলেই মানুষ তা উপভোগ করার বদলে দিন গোনা শুরু করে, যা মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

Read nextভোর ৫:৪৮-এর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ: সাধারণ আড্ডা কীভাবে বদলে গেল চরম সামাজিক দুঃস্বপ্নে?

একজন পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়টা অনেকের জন্যই যেন এক দীর্ঘ মানসিক নির্যাতন। তবে অন্য পক্ষ দাবি করছে, এই ভয় কেবল দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে। শীতকালকে অলস সময়, চা খাওয়ার ঋতু কিংবা প্রকৃতির সাথে নিজের গতি ধীর করার সুযোগ হিসেবে দেখলে এই ভয় অনেকটাই কেটে যায়। এমনকি শীতের সবচেয়ে ঠান্ডা দিনগুলোতে নিজেকে অপরাধবোধ ছাড়া বিশ্রাম নেওয়ার ছাড়পত্র দিলেও মানসিকভাবে শান্ত থাকা সম্ভব।

তবে এই ঋতুভিত্তিক আতঙ্কের পেছনে কি কেবল আবহাওয়া দায়ী? গবেষণায় দেখা যায়, বাইরে দীর্ঘ অন্ধকার যখন নামতে শুরু করে, তখন মানুষের ভেতরের গোপন মানসিক শূন্যতাগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই জীবনের সব প্রচলিত শর্ত পূরণ করেছেন—স্থায়ী চাকরি, ভালো আয়, বন্ধু এবং হরেক রকমের শখ থাকা সত্ত্বেও তাদের মন থেকে খালি খালি ভাবটা দূর হয় না। অতীত দিনের সুন্দর স্মৃতির সাগরে ডুবে থাকা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় থাকে না।

Sponsored
govfab.com Turn ideas into reality with AI-powered manufacturing. Describe what you need, and GovFab transforms your idea into a custom-designed product ready to manufacture. Learn more →

অনেকে মনে করেন, সুখ হয়তো কোনো স্থায়ী বস্তু নয় যা অর্জন করলেই ধরে রাখা যায়। সঙ্গী থাকা বা না থাকা, কিংবা জীবনের সব চাহিদা পূরণ হওয়ার পরও মানুষের মনের গভীরে এক ধরণের অস্তিত্ব সংকট থেকে যায়। আমরা যখন কোনো কিছুর শেষ ভেবে আগাম ভয় পেতে শুরু করি, তখন বর্তমানের সুন্দর মুহূর্তগুলোও হাতছাড়া হয়ে যায়—চাই তা রোদেলা আগস্টের দুপুরই হোক বা জীবনের কোনো সুবর্ণ সময়।

কেন মানুষ ঋতুর পরিবর্তনে এত তীব্র মানসিক যন্ত্রণায় ভোগে এবং কেন সব পেয়েও মনের শূন্যতা কাটে না—এসব গভীর সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে আমাদের পডকাস্টের দুই হোস্ট মুখোমুখি হয়েছেন এক আবেগঘন বিতর্কে। বিস্তারিত শুনতে টিউন করুন 'অগোচরে' পডকাস্টের নতুন পর্বে।

0:00
0:00
Link copied ✓