বিটিএস কনসার্ট, ভাঙা স্বপ্ন ও বিষাক্ত বন্ধুত্ব: এক তরুণীর না-বলা আক্ষেপের গল্প

একসাথে প্রিয় ব্যান্ডের কনসার্টে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে কীভাবে বিচ্ছেদ ঘটলো দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর?
Bengali

বিটিএস কনসার্ট, ভাঙা স্বপ্ন ও বিষাক্ত বন্ধুত্ব: এক তরুণীর না-বলা আক্ষেপের গল্প · Avonetics

🎧 Podcast episode
Coming soon — রোহান & তানিয়া are taking this one into the studio.
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

২০১৯ সালে কলেজের ক্যাম্পাসে যখন দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল, তখন মনে হয়েছিল যেন তারা একে অপরের আত্মার আত্মীয়। হাসিখুশি দিন, একই রঙের জামা পরা, আর সবচেয়ে বড় কথা—কোরিয়ান পপ ব্যান্ড 'বিটিএস'-এর প্রতি এক উন্মাদ ভালোবাসা তাদের দুজন থেকে একজনে পরিণত করেছিল। দুজনে মিলে স্বপ্ন দেখেছিলেন, জীবনের প্রথম বিটিএস কনসার্টটি তারা একসাথেই উপভোগ করবেন। কিন্তু জীবনের কঠোর বাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক জটিলতা কীভাবে একটি বোন সমতুল্য সম্পর্ককে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, তারই এক করুণ কাহিনী সম্প্রতি সামনে এসেছে।

গল্পের শুরুটা বেশ স্বাভাবিক থাকলেও সময়ের সাথে সাথে দুজনের জীবনের মোড় আলাদা হতে শুরু করে। লেখিকা নিজে দীর্ঘ দূরত্বের দাম্পত্য জীবন সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, যেখানে তার স্বামী বিদেশে অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে তার বান্ধবী জড়িয়ে পড়েন এক অত্যন্ত বিষাক্ত ও মানসিক নির্যাতনমূলক প্রেমের সম্পর্কে। বান্ধবীকে সেই নরকতুল্য সম্পর্ক থেকে উদ্ধার করতে বারবার হাত বাড়িয়েছিলেন লেখিকা। কিন্তু একসময় তিনি উপলব্ধি করেন, যে ব্যক্তি নিজেই মুক্ত হতে চায় না, তাকে জোর করে রক্ষা করা অসম্ভব। এই যে অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ, তা হয়তো বান্ধবীর মনে এক ধরণের ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।

Read nextভোর ৫:৪৮-এর সেই অনাকাঙ্ক্ষিত মেসেজ: সাধারণ আড্ডা কীভাবে বদলে গেল চরম সামাজিক দুঃস্বপ্নে?

তবে বন্ধুত্বের সুতোটি চিরতরে ছিঁড়ে যায় এক ফ্রেন্ডসগিভিং রাতের খাবারের টেবিলে। লেখিকা নিজের বাড়িতে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন তার ভাইও। আড্ডার মাঝে লেখিকার ভাই তার দূরবর্তী বিবাহিত জীবন নিয়ে একটি অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করে বসেন। ভাইয়ের এই বোকামি দেখে লেখিকা লক্ষ করেন, তার সেই প্রিয় বান্ধবী এবং দলের আরেক বন্ধু নিজেদের ফোনে মেসেজ চালাচালি করছে এবং লেখিকার ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসছে। অনুষ্ঠান শেষে লেখিকা বিষয়টি নিয়ে মুখোমুখি কথা বলেন। ভাই এবং অপর বন্ধুটি তাৎক্ষণিক ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেও, প্রিয় বান্ধবীটি ক্ষমা চাওয়ার বদলে তীব্র চিৎকার ও তর্কে জড়িয়ে পড়ে। সেই রাতেই দীর্ঘদিনের বিশ্বাসে প্রথম বড় আঘাতটি লাগে।

পরবর্তী মাসগুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হলেও তা আর আগের মতো হয়নি। একসাথে ঘুরতে গেলেও লেখিকাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হতো। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, যে বন্ধুদের সাথে লেখিকাই তার বান্ধবীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন, তারাই পরবর্তীতে বান্ধবীকে আপন করে নেয় এবং লেখিকাকে পুরো দল থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

চূড়ান্ত দূরত্বের সৃষ্টি হয় গত জুনে, বান্ধবীর জন্মদিনের সময়। লেখিকার স্বামীর ভিসা ইন্টারভিউয়ের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলায় তিনি জন্মদিনের নৈশভোজে যোগ দিতে পারেননি। লেখিকা বন্ধুদের গ্রুপে কারণটি স্পষ্ট জানালেও, বান্ধবীটি কোনো শুভকামনা জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি—কেবল মেসেজে একটি নির্জীব 'লাইক' দিয়ে এড়িয়ে যায়। এত বছরের সম্পর্কের ইতি যে সেখানেই ঘটে গেছে, তা বুঝতে আর বাকি ছিল না।

কিন্তু গল্পের চূড়ান্ত আক্ষেপ নেমে আসে দুই দিন আগে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখিকা দেখতে পান, সেই বান্ধবী একা একাই বিটিএস-এর কনসার্টে যোগ দিয়েছেন এবং উজ্জ্বল হাসির ছবি পোস্ট করেছেন। যে স্বপ্নটি তারা একসাথে যৌথভাবে গড়ে তুলেছিলেন, তা একা পূরণ হতে দেখে লেখিকার বুক ভেঙে যায়। তিনি বিনীতভাবে কমেন্ট করে আনন্দ প্রকাশ করলেও বান্ধবীটি তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যায়।

Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avonetics

এই ঘটনা পাঠকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মানুষের মতামত এখানে দুই ভাগে বিভক্ত। একদল মানুষের মতে, বান্ধবীর দিক থেকেও হয়তো কিছু অভিযোগ ছিল। একজন মন্তব্যকারী বলেন, "প্রিয় মানুষের কাছ থেকে নিজের বিষাক্ত সম্পর্কের ব্যাপারে বারবার সমালোচনা শোনা এবং ভাইয়ের অসৌজন্যমূলক আচরণের পর নিজেকে কোণাঁসা ভাবাটাই হয়তো তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।" অন্য একজন যুক্তি দেন, "হয়তো জন্মদিনের দিন না যাওয়াটাকে বান্ধবীটি প্রত্যাখান হিসেবে গ্রহণ করেছিল।"

অন্যদিকে দ্বিতীয় দলটির মতে, বান্ধবীটি শুরু থেকেই একজন অসৎ ও অহংকারী মানুষ ছিলেন। আরেকজন মন্তব্যকারী উল্লেখ করেন, "এখানে কষ্টের বিষয়টি মানুষটি নিজেই নয়, বরং একসাথে গড়ে তোলা জীবনের পরিকল্পনা ও কল্পনার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া পালন করা। বন্ধু যখন বিটিএস কনসার্টের স্বপ্ন একা পূরণ করে এবং আন্তরিক বার্তার জবাব দেয় না, তখন স্পষ্ট হয়ে যায় যে সে সম্পর্কের মূল্য বোঝেনি।"

গল্পের এই করুণ পরিণতি আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, অনেক সময় কাছের মানুষদের হারিয়ে যাওয়ার কষ্টটি সরাসরি তাদের শারীরিক অনুপস্থিতির চেয়েও বেশি তাদের বদলে যাওয়া ব্যক্তিত্বের কারণে ঘটে। যখন কোনো বন্ধু একসময়ের দেওয়া কথা অনায়াসে ভুলে যায় এবং যৌথ স্মৃতিগুলোকে একা উপভোগ করার মাধ্যমে অপরজনকে বাদ দিয়ে দেয়, তখন তা হৃদয়ে এক চিরস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। লেখিকা আজ অন্য বন্ধুদের মাঝে থাকলেও, বিটিএস-এর গানের সুর শুনলেই তার মনে ভেসে ওঠে সেই হীনমন্যতা ও হারানো বন্ধুত্বের বিষাদ।

সম্পর্কের এই জটিল মনস্তত্ত্ব এবং ভুল বোঝাবুঝির আড়ালে লুকিয়ে থাকা সত্যগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত ও রোমাঞ্চকর তথ্য আলোচনা করেছেন আমাদের পডকাস্টের উপস্থাপকেরা, শুনুন 'অগোচরে'-এর নতুন পর্বে।

0:00
0:00
Link copied ✓
↑