রাতের আকাশে মৃত্যুর গর্জন: ভিয়েতনাম যুদ্ধের 'স্পুকি' গানশিপ এবং জুতার ফিতায় উন্মোচিত ৩৭ বছরের গোপন সত্য

রাতের আকাশে মৃত্যুর গর্জন: ভিয়েতনাম যুদ্ধের 'স্পুকি' গানশিপ এবং জুতার ফিতায় উন্মোচিত ৩৭ বছরের গোপন সত্য · Avonetics
১৯৬৪ সালের ডিসেম্বর মাস। ভিয়েতনাম যুদ্ধের ঘন কালো রাতের আকাশে হঠাৎ দেখা গেল এক অদ্ভুত আলোর ঝলকানি। আকাশ থেকে নেমে এল টানা গুলির শব্দ। যে বিমানটি থেকে এই ভয়াবহ অগ্নিবর্ষণ হচ্ছিল, তার নাম এসি-৪৭ 'স্পুকি'। ডগলাস সি-৪৭ নামক সাধারণ একটি পরিবহন বিমানকে রূপান্তর করে তৈরি করা হয়েছিল এই ঘাতক গানশিপ। তিন-তিনটি মিনিগান সমৃদ্ধ এই বিমানটি যুদ্ধের ময়দানে পদাতিক বাহিনীকে টানা সুরক্ষা দেওয়ার জন্য উদ্ভাবন করা হয়।
ঐতিহাসিক নথিপত্র অনুসারে, ১৯৬৪ সালের ২৩শে ডিসেম্বর রাতে মেকং বদ্বীপের থাঙ্ক ইয়েন আউটপোস্টে যখন শত্রুপক্ষ চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে, তখন এই স্পুকি বিমান মাত্র ৩৭ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আকাশে ফ্লেয়ার ছুড়ে যুদ্ধক্ষেত্র আলোকিত করার পর এটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে ৪,৫০০ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। শত্রুসেনারা বাধ্য হয় পিছু হটতে। কিন্তু এই সামরিক সফলতার আড়ালে চাপা পড়ে যায় বিমানে কর্মরত সেনাদের ভয়াবহ শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির গল্প। বিমানে কোনো সঠিক সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকায় গুলির বিকট শব্দে বধির হয়ে গিয়েছিলেন অনেক গানার।
Read nextমাও সেতুং কি সত্যিই ১৯৭৬ পর্যন্ত বেঁচে ভুল করেছিলেন? একটি রটে যাওয়া উক্তি ও প্রাচীন বিশ্বের রহস্যময় দলিল
একজন ইতিহাস গবেষক উল্লেখ করেছেন, "এই গানশিপের উদ্ভাবন তৎকালীন সময়ে সেনাদের জীবন বাঁচালেও এটি যুদ্ধের ভয়াবহতাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। বি-৫২ বোমারু বিমানের চেয়ে এটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারলেও এর মানবিক মূল্য ছিল মারাত্মক।"
যুদ্ধের এই ভয়াবহ স্মৃতির মতোই ইতিহাসে হারিয়ে গিয়েছিল আরেকটি ঘটনা। ১৯৮৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিখোঁজ হন জেমস হোমার রাইট নামের এক তরুণ আদিবাসী। পুলিশ কোনো কুলকিনারা না পেয়ে মামলাটি বন্ধ করে দেয়। ১৯৯০ সালে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এক অজ্ঞাত লাশের সাথে জেমসের কোনো সংযোগ তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
কিন্তু দীর্ঘ ৩৭ বছর পর ২০২৫ সালে ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। জেমসের বৃদ্ধা মা পুরনো নথির ছবিতে সেই অজ্ঞাত লাশের পায়ের নাইকি জুতোর ফিতা বাঁধার ঢং দেখে চিনতে পারেন নিজের ছেলেকে। বিশেষ 'বাস্কেট-উইভ' স্টাইলে ফিতা বাঁধার ওই অনন্য কৌশলই ফিরিয়ে দেয় জেমসের প্রকৃত পরিচয়।
ইতিহাসের এই দুই বিপরীতমুখী সত্য—একদিকে প্রযুক্তিগত ধ্বংসযজ্ঞ এবং অন্যদিকে এক মায়ের হৃদয়বিদারক সত্য অনুসন্ধানের গল্প নিয়ে আমাদের পডকাস্টের উপস্থাপকরা মেতে উঠেছেন এক নতুন আলোচনায়।