জুতার ফিতার বুননে ৩৬ বছরের রহস্য ভেদ: স্যাক্রামেন্টো নদীর অজানা লাশের পরিচয় উদ্ধার!

১৯৮৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডিং থেকে নিখোঁজ আদিবাসী যুবক জেমস রাইটের পরিচয় অবশেষে নিশ্চিত করল আধুনিক ডিএনএ ও মায়ের এক অটল স্মৃতি।
Bengali

জুতার ফিতার বুননে ৩৬ বছরের রহস্য ভেদ: স্যাক্রামেন্টো নদীর অজানা লাশের পরিচয় উদ্ধার! · Avonetics

🎧 Listen to this episode
Closes with the original song “কথা রাখিস”. · Plays on Spotify · Open on Spotify ↗
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

১৯৮৮ সালের এক অগাস্টের বিকেল। ক্যালিফোর্নিয়ার রেডিং শহরের তরুণ জেমস হোমার রাইট তাঁর সাইকেলটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। স্থানীয় পেট্রোল পাম্পে যাবেন বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন ২০ বছরের এই আদিবাসী যুবক। কিন্তু তারপর আর তিনি ফিরে আসেননি। সময় গড়িয়েছে, পুলিশের ফাইল লাল ফিতায় আটকা পড়েছে, কিন্তু জেমসের পরিবার তাঁর পথ চাওয়া বন্ধ করেনি।

ঘটনার ঠিক দুই বছর পর, ১৯৯০ সালে স্যাক্রামেন্টো নদীর একটি নির্জন দ্বীপে নদী পরিষ্কার করতে গিয়ে কিছু মানুষের কঙ্কাল খুঁজে পান কর্মীরা। নদীর অপর পাড়ে পাওয়া যায় একটি ডাফেল ব্যাগ এবং এক জোড়া নীল-সাদা নাইকি স্নিকার্স। কিন্তু সেই সময়কার ফরেনসিক দল এক মারাত্মক ভুল করে বসে। পুরুষদেহের কঙ্কালটিকে একজন অজ্ঞাতপরিচয় নারীর দেহাংশ বলে নথিভুক্ত করা হয়।

Read nextপাহাড়ের নির্জন কেবিনে ফেলে যাওয়া শেষ বার্তা: কার্শিয়াংয়ের কুয়াশায় উধাও শুভদীপ সেনগুপ্ত!

পরবর্তী ১৬ বছর ধরে সেই লাশ 'জন ডো' হিসেবে ফাইলেই থেকে যায়। ২০০৬ সালে প্রথমবার ডিএনএ পরীক্ষায় উঠে আসে যে কঙ্কালটি প্রকৃতপক্ষে এক যুবকের। তবে নিখোঁজ জেমসের সঙ্গে এই লাশের সংযোগ তৈরি করতে আরও দুই দশক সময় লেগে যায়। ঘটনার মূল মোড় ঘোরে যখন পুরানো আলামতের ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়।

জেমসের বৃদ্ধা মা ফ্লোরেন্স সেই ছবিতে থাকা স্নিকার্সের ফিতা বাঁধার বিশেষ 'বাস্কেট-উইভ' বা ঝুড়ি-বুননের নঁকশা দেখে চমকে ওঠেন। নিজের হাতে ছেলের জুতোয় বেঁধে দেওয়া সেই ফিতা তিনি মুহূর্তে চিনে ফেলেন। মায়ের সেই দাবির ওপর ভিত্তি করেই সম্প্রতি শাস্তা কাউন্টি শেরিফ দফতর ডিএনএ পরীক্ষা করায় এবং নিশ্চিত হয়—স্যাক্রামেন্টো নদীতে পাওয়া সেই দেহাংশ জেমস হোমার রাইটেরই।

Sponsored
govfab.com Turn ideas into reality with AI-powered manufacturing. Describe what you need, and GovFab transforms your idea into a custom-designed product ready to manufacture. Learn more →

এই আবিষ্কার সমাজে চরম বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, মাত্র চার মাইল দূরে লাশ পাওয়া সত্ত্বেও পুলিশের এই দীর্ঘায়িত ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না। এক সামাজিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন, "এটি নিছক প্রযুক্তিগত ভুল নয়, বরং আদিবাসী নিখোঁজ মানুষদের কেসে পুলিশের ঐতিহাসিক উদাসীনতার ফল।"

অন্যদিকে, প্রযুক্তিবিদদের দাবি, নব্বইয়ের দশকে উন্নত ডিএনএ ডেটাবেস না থাকা এবং নদী থেকে উদ্ধার হওয়া কঙ্কালের শারীরিক পরিবর্তনের কারণেই এই বিভ্রাট ঘটেছিল। জেমসের বাবা ২০১৬ সালে ছেলেকে না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে মারা গেছেন, তবে বৃদ্ধা মা আজ অন্তত সত্যের মুখোমুখি হতে পেরেছেন।

কীভাবে একটি জুতার ফিতা এবং আধুনিক ডিএনএ বিজ্ঞান ৩৬ বছরের কোল্ড কেসের সমাধান করল, তা নিয়ে আরও বিস্তারিত এবং তর্ক-বিতর্ক তুলে ধরেছেন আমাদের সঞ্চালকরা 'শেষ সূত্র' পডকাস্টের নতুন পর্বে।

0:00
0:00
Link copied ✓