হাইওয়ে থেকে বনের গভীরে: অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার দুই অভিশপ্ত হাইচহাইকিং হত্যাকাণ্ড

হাইওয়ে থেকে বনের গভীরে: অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকার দুই অভিশপ্ত হাইচহাইকিং হত্যাকাণ্ড · Avonetics
আন্তর্জাতিক অপরাধের ইতিহাসে কিছু ঘটনা মানুষকে বছরের পর বছর তাড়া করে ফেরে। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের শান্ত বেল্যাংলো স্টেট ফরেস্ট পরিণত হয়েছিল এক জীবন্ত নরকে। একের পর এক আন্তর্জাতিক ব্যাকপ্যাকার হঠাৎ উধাও হয়ে যেতে শুরু করে। জোয়ান ওয়াল্টার্স, ক্যারোলিন ক্লার্ক, সিমন স্মিডলের মতো সাতজন তরুণ-তরুণী কেবল সামান্য হাইচহাইকিংয়ের সুযোগ নিয়ে একটি গাড়িতে উঠেছিলেন। কিন্তু সেই গাড়ির চালক আইভান মিলাট তাদের জন্য ফাঁদ পেতে রেখেছিল।
মিলাট ভিকটিমদের বনের গভীরে নিয়ে গিয়ে দিনের পর দিন অমানুষিক নির্যাতন চালায়, অর্থ লুট করে এবং নৃসংশভাবে হত্যা করে পাতায় ঢেকে রাখে। অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ তৎকালীন ইতিহাসের সর্ববৃহৎ তদন্ত দল 'টাস্ক ফোর্স এয়ার' গঠন করলেও অপরাধীর দেখা পাচ্ছিল না। অবশেষে ১৯৯০ সালে ঘটে যাওয়া এক অবিশ্বাস্য ঘটনা পুরো তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ব্রিটিশ ভ্রমণকারী পল অনিয়ন্স মিলাটের চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে জীবন বাঁচিয়েছিলেন। পরবর্তীতে খবর দেখে পলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তার হয় মিলাট।
Read nextপাহাড়ের নির্জন কেবিনে ফেলে যাওয়া শেষ বার্তা: কার্শিয়াংয়ের কুয়াশায় উধাও শুভদীপ সেনগুপ্ত!
বিচারে মিলাটের সাতবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় এবং ২০১৯ সালে ক্যান্সারে তার মৃত্যু ঘটে। কিন্তু আজও এই ঘটনা নিয়ে জলঘোলা থামেনি। এক অপরাধ গবেষক মন্তব্য করেছেন, একাধিক ভিকটিমকে একাকী মিলাটের পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব ছিল, নিশ্চয়ই তার পরিবারের অন্য ভাইয়েরাও এই জঘন্য কাজে হাত মিলিয়েছিল। আরও অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ নাকি আরও অন্তত ১১ জন ভিকটিমের ক্লু পাওয়া সত্ত্বেও বেল্যাংলো বনে সঠিক তল্লাশি চালায়নি।
ঠিক একই ধরণের অন্ধকার ছায়া দেখা গিয়েছিল ১৯৭৪ সালের নিউ জার্সিতেও। ১৭ বছরের মেরিয়ান প্রায়র এবং ১৬ বছরের লোরেন মেরি কেলি হাইচহাইকিং করে শপিং মলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। পরে জঙ্গলে পাওয়া যায় তাদের বিভৎস মৃতদেহ। হাত-পা বাঁধা, পিটিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা এই দুই কিশোরীর বিচার মেলেনি দীর্ঘ ২৬ বছর। গোয়েন্দা রবার্ট আনজিলোট্টি ২০০০ সালে কেসটি পুনরায় না খোলা পর্যন্ত এটি কোল্ড কেস হিসেবেই পড়ে ছিল।
অন্য এক বিশ্লেষক যুক্তি দিয়েছেন, সে যুগে পুলিশি প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা এবং হাইচহাইকিং কালচারের অসচেতনতাই অপরাধীদের বছরের পর বছর ছাড় পাইয়ে দিয়েছিল। এটি কোনো একক চক্রান্ত নয়, বরং সামাজিক অসচেতনতার সুযোগ নিয়েছিল একাকী মনস্তাত্ত্বিক খুনিরা।
এই ভয়াল দুই ট্র্যাজেডি এবং এর পেছনের গোপন আন্তর্জাতিক কেস ফাইল নিয়ে 'শেষ সূত্র' পডকাস্টের সাম্প্রতিক পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন রোহান ও দিয়া।