পোস্টারে ১০০০ কোটি, কিন্তু হলে ফাঁকা আসন! সিনেমার বক্স অফিসে বিশাল প্রতারণার খেলা উন্মোচিত

রুপালী পর্দার আড়ালে কীভাবে কাজ করছে কর্পোরেট টিকিট বুকিং, ভুয়ো তথ্য এবং স্টারদের সাজানো পিআর স্টান্ট?
Bengali

পোস্টারে ১০০০ কোটি, কিন্তু হলে ফাঁকা আসন! সিনেমার বক্স অফিসে বিশাল প্রতারণার খেলা উন্মোচিত · Avonetics

🎧 Podcast episode
Coming soon — দিয়া & সৌমিক are taking this one into the studio.
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

চিত্রনাট্যের চেয়েও রোমাঞ্চকর এখন বক্স অফিসের পরিসংখ্যান। প্রতি শুক্রবার সিনেমা মুক্তির সাথে সাথেই শুরু হয় কোটির হিসাব-নিকাশ। ১০০ কোটি, ৫০০ কোটি কিংবা ১০০০ কোটি টাকার ক্লাবে পৌঁছানোর দাবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব হয়ে যায় চকচকে পোস্টারে। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে ঢুকলেই দেখা যায় ভিন্ন দৃশ্যপট। প্রথম সপ্তাহের জমকালো কালেকশনের খবর প্রচার হলেও বাস্তবতায় হলের আসনগুলোর বড় অংশই পড়ে থাকে খালি।

সিনেমা শিল্পের এই অদ্ভুত বৈপরীত্য এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়। পেছনের রহস্য অনুসন্ধান করতেই বেরিয়ে আসে 'কর্পোরেট বুকিং'-এর চতুর খেলা। সিনেমার প্রযোজক এবং পিআর এজেন্সিগুলোই একযোগে হাজার হাজার টিকিট অগ্রিম কিনে নেয়। উদ্দেশ্য একটাই—খাতার কলমে সিনেমাটিকে হাউসফুল দেখানো এবং মিডিয়াতে সাফল্যের এক কৃত্রিম আবহ তৈরি করা। এই ভুয়ো সাফল্য দেখিয়ে পরবর্তীতে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম বা স্যাটেলাইট সত্ত্ব আকাশছোঁয়া দামে বিক্রি করা হয়।

Read nextস্পাইডার-ম্যানের ৭০০ মিলিয়নের ঝড়: বক্স অফিসে বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন নাকি মৌলিক সিনেমার মৃত্যুঘণ্টা?

এক চলচ্চিত্র পরিবেশক আক্ষেপ করে জানান, আজকাল সাধারণ দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে আনার জন্য সত্য তথ্যের চেয়ে মিথ্যে হাইপ বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রথম তিন দিনের কালেকশন বাড়িয়ে না দেখালে সিনেমাটিকে শুরুতেই ব্যর্থ বলে ধরে নেওয়া হয়, আর সেই ভয় থেকেই এই প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া।

অন্য একজন বিনোদন সাংবাদিক আবার পিআর এজেন্সিগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, কোনো বড় তারকার ইমেজ বাঁচাতে এখন অনায়াসে কোটি টাকার ভুয়ো কালেকশনের খবর চাওয়া হয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে ট্রেন্ড তৈরি করা এবং ইতিবাচক রিভিউ কেনাও এই কৌশলেরই অংশ।

Sponsored
govfab.com Turn ideas into reality with AI-powered manufacturing. Describe what you need, and GovFab transforms your idea into a custom-designed product ready to manufacture. Learn more →

দর্শকরা কি সত্যিই এই সাজানো জালে পা দিচ্ছেন? সাময়িকভাবে কৃত্রিম উন্মাদনা তৈরি করা গেলেও, ছবি ভালো না হলে দ্বিতীয় সপ্তাহে গিয়ে ভেঙে পড়ে এই তাসের ঘর। মিথ্যে কালেকশনের আশ্বাসে হলে গিয়ে হতাশ হওয়া দর্শকরা দিন দিন হলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, গল্প ও নির্মাণের গুণগত মান বাদ দিয়ে কেবল অঙ্কের কারচুপি দিয়ে সিনেমা শিল্পকে দীর্ঘদিন বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব নয়।

এই ফেক বক্স অফিস কালেকশনের আসল রহস্য, প্রযোজকদের গোপন অংক এবং তারকাদের পিআর খেলার ভেতরের খবর নিয়ে আরও জমজমাট ও বিতর্কিত আলোচনা করেছেন আমাদের পডকাস্ট ‘পর্দার পেছনে’-র সঞ্চালকরা।

0:00
0:00
Link copied ✓
↑