পাহাড়ি মোড়ে চালু গাড়ি, গায়েব মেমোরি কার্ড: ৫ বছর ধরে রহস্য অর্পণ সেনগুপ্তের নিখোঁজ সংবাদে!

নিঝুম রাতের ড্রাইভ, ড্যাশবোর্ডে অর্ধেক খাওয়া কফির কাপ এবং নেটদুনিয়ায় ঝড় তোলা এক অমীমাংসিত অপরাধের সমীকরণ।
Bengali

পাহাড়ি মোড়ে চালু গাড়ি, গায়েব মেমোরি কার্ড: ৫ বছর ধরে রহস্য অর্পণ সেনগুপ্তের নিখোঁজ সংবাদে! · Avonetics

🎧 Podcast episode
Coming soon — রোহান & দিয়া are taking this one into the studio.
Sponsored
Volicci custom graphic tees, hoodies & die-cut stickers, a fresh original design every day. Learn more →

২০১৯ সালের ১২ই নভেম্বর। কনকনে ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় ঢাকা মেঘালয়ের জাতীয় সড়ক। রাত তখন প্রায় বারোটা। টহলদারি পুলিশের একটি গাড়ি পাহাড়ি বাঁকে চোখ পড়তেই থমকে যায়। রাস্তার ঠিক ধারে দাঁড়িয়ে আছে একটি কালো এসইউভি। গাড়ির হেডলাইট জ্বলছে, ইঞ্জিন চালু, আর ড্রাইভারের পাশের দরজাটি পুরোপুরি খোলা। কিন্তু ভেতরে কেউ নেই।

গাড়ির ভেতরের দৃশ্য দৃশ্যত আরও অদ্ভুত। ড্যাশবোর্ডে রাখা একটি কফির কাপ, ফোনটি সচল, কিন্তু উধাও গাড়িটির মালিক২৭ বছর বয়সী আর্কিটেক্ট অর্পণ সেনগুপ্ত। সেই রাতের পর পাঁচ বছর পার হয়ে গেছে। মেঘালয়ের পাহাড় বা গুয়াহাটির সমতল—কোথাও অর্পণের কোনো খোঁজ মেলেনি।

Read nextপাহাড়ের নির্জন কেবিনে ফেলে যাওয়া শেষ বার্তা: কার্শিয়াংয়ের কুয়াশায় উধাও শুভদীপ সেনগুপ্ত!

পুলিশ তদন্তে নেমে দেখে, গাড়ি থেকে কোনো মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়নি। অর্পণের ল্যাপটপ, মানিব্যাগ, এমনকি দামি ঘড়িটিও সিটের ওপর পড়ে ছিল। তবে একটি জিনিস উধাও ছিল—গাড়ির ড্যাশবোর্ড ক্যামেরার মেমোরি কার্ড। কে বা কারা ওই কার্ডটি খুলে নিয়েছে, তা আজও রহস্যাবৃত।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ট্রু-ক্রাইম ফোরামগুলোতে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। একদল অনুরাগী দাবি করেন, এটি একটি পরিকল্পিত আত্মগোপন। কারণ অর্পণ অন্তর্ধানের কয়েক দিন আগেই ব্যাংক থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছিলেন। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, "অর্পণ নিজের পুরোনো জীবন পেছনে ফেলে নতুন পরিচিতিতে বাঁচার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাই সব জিনিসপত্র ফেলে রেখে গেছেন।"

Your brand, right here.Reach story-obsessed listeners in 45+ languages → advertise on Avonetics

তবে এই যুক্তির বিপক্ষে সরব হয়েছেন অনেকেই। অন্য এক নেটিজেনের মতে, "গাড়ি চালু রেখে দরজা খোলা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আর ড্যাশবোর্ড ক্যামেরার মেমোরি কার্ড যদি অর্পণ নিজেই খুলতেন, তবে ফোন বা মানিব্যাগও নিয়ে যেতেন। এখানে অন্য কারো হাত আছে।"

তদন্তে উঠে আসা অন্য একটি সূত্র বলছে, অর্পণ যে প্রজেক্টে কাজ করছিলেন, সেখানে একটি বিরাট আর্থিক ও আইনি দুর্নীতি তিনি ধরে ফেলেছিলেন। অন্তর্ধানের ঠিক আধঘণ্টা আগে তার ফোনে এসেছিল একটি অজ্ঞাতপরিচয় কল। সেই ফোন কলের পর থেকেই অর্পণের অবস্থান জানা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এটি কি ছিল কোনো আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের কাজ, নাকি নিখুঁত কোনো আত্মগোপন? এই রহস্যের প্রতিটি পরত, আলামতের সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ এবং ডিজিটাল ফরেনসিকের অজানা তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন 'শেষ সূত্র' পডকাস্টের সঞ্চালকরা।

0:00
0:00
Link copied ✓
↑